apdr-factfinding- on Chandannagr Communal Tension 11-13 Oct 16 Chandannagar APDR

0
388

চন্দননগরের ১১১৩ অক্টোবরের ঘটনাবলীর তথ্যানুসন্ধান

গত ১১ অক্টোবর রাত থেকে চন্দননগরের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের একটি অংশে বিক্ষিপ্ত ভাবে দোকান-পাট ভাঙচুর, আগুন লাগানো ,রাস্তা অবরোধ ইত্যাদি ঘটে। দুটি সম্প্রদায়ের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ে । ১১ আর ১২ অক্টোবর যথাক্রমে ছিল  দুর্গাপুজোর দশমী আর মহরম।  পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে বড় মাপের পুলিশি /RAF নিয়োগের প্রয়োজন হয়। জারি হয় ১৪৪ ধারা।  চন্দননগর উর্দিবাজার থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে শুরু হওয়া মহরমের শোকযাত্রা বন্ধ রাখা হয়। এই ঘটনা গুলো কে ভিত্তি করে চন্দননগর এবং তার বাইরে ছড়াতে থাকা গুজব এবং আতঙ্ক এক বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরী করে। ১৩ তারিখ সকাল থেকে অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

ঘটনাবলির অসমর্থিত বিবরণ

  • ১১ অক্টোবর রাত প্রায় নটা পর্যন্ত দুর্গা প্রতিমার নিরঞ্জন হয় , যা আদালতের রায় কে লংঘন করেছে ।
  • ১১ অক্টোবর বিকেল থেকে রাতে চন্দননগরে মধ্য এবং উত্তর অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে, দূর্গাপ্রতিমার নিরঞ্জন শোভাযাত্রা এবং প্রাক মহরম শোভাযাত্রার মুখোমুখি হওয়ার কিছু ঘটনা ঘটে । কোনো সংঘর্ষ না হলেও বাদানুবাদ, সাময়িক উত্তেজনা ইত্যাদি সৃষ্টি হয় ।
  • ১১ অক্টোবর গভীর রাতে কোনো একটি প্রাক-মহরম শোভাযাত্রার মিছিল- ফেরত কিছু মুসলিম যুবক লালদীঘির ধারে এবং কৃষ্ণভাবিনী নারী শিক্ষা মন্দিরের পাশে হিন্দু সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষের কিছু দোকান ভাংচুর করে । একই সময় লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে ‘মজলিস’ রেস্টুরেণ্টেও ভাংচুর করা হয় ।
  • ১২ অক্টোবর ভোর থেকে এই ঘটনার বিক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া শুরু হয় । মূলত জি টি রোড ধরে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার থেকে শুরু করে উত্তর দিকে তালডাঙ্গা পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত দোকান ভাংচুর , রাস্তায় কাচের টুকরো ছড়ানো, টায়ার জ্বালানো , দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ ইত্যাদি ঘটে । দোকান, বাস, অটো বন্ধ করে দেওয়া হয় । ১৩ তারিখ বেলার দিক পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকে ।
  • দুই সম্প্রদায়ের প্রায় জনা ২৫ মানুষকে  গ্রেপ্তার করা হয় হয় ।  চন্দননগরের এস ডি ও ১২ তারিখ সকালে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন । এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে মহরমের শোভাযাত্রা বন্ধ রাখা হয় ।

বতর্মানে উত্তেজনা কমলেও অবস্থা স্বাভাবিক বলা যাবে না । উর্দিবাজার, লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার প্রভৃতি  অঞ্চলে বেশ ভালোরকম পুলিশের উপস্থিতি, প্রহরা এবং টহলদারি জারি আছে।  এছাড়া , লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে মুসলমান সব্জী বিক্রেতা দের বসতে দেওয়া হচ্ছে না যা নিয়ে  অসন্তোষ বাড়ছে ।

প্রকৃত ঘটনার বিবরণ , তার বিস্তার এবং বর্তমান পরিস্হিতি বোঝার জন্য APDR চন্দন নগর শাখা ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২.৩০ থেকে একটি তথ্যানুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া বিবরণ

তথ্যানুসন্ধান তিনজন ও দুজনের দুটি দলে ভাগ হয়ে চালানো  হয় । প্রকৃত ঘটনা এবংগ বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য কখনো পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে , কখনো অপরিচিত স্থানীয়  মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয় ।  তিনজনের প্রথম দলটি , চন্দননগর বাগবাজার ও জি টি রোডের মোড় থেকে পূর্বদিকে হাঁটা শুরু করে ।  প্রথম গন্তব্য ছিল কুঠির মাঠের উত্তর প্রান্তে একটি সরু গলিতে এক মুসলমান নাগরিকের বাড়ি ।  পেশায় রাজমিস্ত্রি এই বৃদ্ধ এখন অবসর নিয়েছেন ।  একসময় জাতীয় কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন ।  তার বড় ছেলে বিগত এক পৌর নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের প্রাথী হয়ে পরাজিত হন । বাংলাভাষী মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষটি নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন ,বাড়ি ছিলেন না ।  তথ্যানুসন্ধান দলের এক সদস্যের সাথে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে , বাড়িতে ঢুকে,  তাঁর প্রৌঢ়া স্ত্রীর সাথে – এবং পরে গৃহকর্তা ফিরে এলে, যা কথাবার্তা হলো :

  • ১১ অক্টোবর গভীর রাতে মহরমের মিছিল থেকে বেরিয়ে , মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু “উশৃংখল যুবক মদ্যপ অবস্থায় ” ( এই মন্তব্য স্ত্রীর ) লালদীঘির ধরে হরিজন সম্রপ্রদায়ের কিছু মানুষের দোকানপাট ভাঙচুর করে , যা থেকে গন্ডগোলের সূত্রপাত । তিনি শুনেছেন দোকান গুলি লুঠপাট হয়েছে বলে। তবে এই পরিবার ঘটনাটি জানে পরের দিন অর্থাৎ ১২ অক্টোবর সকালে ।
  • সরাসরি মহরমের মিছিলকে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁরা জড়াতে চাননি, বরং জোর দিয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু বিপথগামী ছেলেদের উশৃঙ্খলতায়।
  • লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে ‘মজলিস’ রেস্টুরেন্ট এর ওপরে আক্রমণের খবরটিও তিনি মনে করেন মূলত সমাজবিরোধীদের – যারা মুসলিম সম্প্রদায়ের – উপদ্রব ।  তাঁর বয়ান অনুযায়ী, ওই রেস্টুরেন্টের ওপরে এই উৎপাত  বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে ।  মহরমের প্রাক্কালে “তা বিনা পয়সায় বিরিয়ানি খাবার জুলুম “ বলেই তিনি মনে করেন ।
  • পরিবারের বড় ছেলে , স্থানীয় পল্লীর সার্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদক । পরিবারের কত্রী উদ্বিগ্ন সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছেলের এই সামাজিক অবস্থানের ওপর হতে পারে ভেবে ।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া  বিবরণ

এরপর তথ্যানুসন্ধানের দলটি পূর্ব দিকে এগিয়ে স্ট্র্যান্ড রোড থেকে উত্তর দিকে উর্দিবাজারের মধ্যে দিয়ে হাটতে থাকে।  এই অঞ্চলটিতে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস, যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন কাঠগোলা, স-মিল , বিল্ডিং মেটেরিয়াল সাপ্লাই  ইত্যাদি দোকানপাটও আছে।  অঞ্চলে পুলিশি প্রহরা এবং টহলদারিতে চাপা উত্তেজনা টের পাওয়া যায় ।  হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার ধরে প্যাটেল স-মিল এর ধারে বসে থাকা তিন-চারটি মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকদের সাথে কথাবার্তায় জানা গেল :

  • এই যুবকদের মধ্যে ২ জন লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে নিয়মিত আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করে।   ১৪ অক্টোবর সকালে – সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রথমবার  – দোকান খুলতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এদের বক্তব্য , বাজার কমিটি রাজি থাকলেও,  কিছু বিক্রেতার ব্যক্তিগত আপত্তিতে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে ।
  • ১১ অক্টোবর রাতে দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনার কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ তারা দিতে পারেনি। মহরমের মিছিল থেকেই এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে , প্রথমে তারা না জানার কথা বলে এবং পরে একজন একটু দৃঢ়ভাবেই এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানায় ।
  • গত এপ্রিল মাসে রামনবমীর “সশস্ত্র” মিছিলের পর থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে এরা মনে করে ।
  • এদের একজন জানায় গত ৯ অক্টোবর – অষ্টমীর রাতে – ১০-১২ টি মোটরসাইকেলে চেপে কিছু যুবক স্ট্র্যান্ড রোডের দক্ষিণ দিক থেকে , ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে এলাকা পরিক্রমা করে ।

দৃশ্যতই এই যুবকের সন্ত্রস্ত এবং উদ্বিগ্ন ।  তথ্যানুসন্ধানের দলের সঙ্গে কথাবার্তা চলাকালীন দুটি পুলিশভ্যান এসে দাঁড়ায় এবং এদের রাস্তা ছেড়ে গলির মধ্যে ঢুকে যাবার নির্দেশ দেয় ।  পরে জানা যায় চন্দননগরের এস ডি  পি ও র নেতৃত্বে এলাকায় টহল চলছে ।

ওই রাস্তা ধরে বাজারের মোড়ে চুনাগলির সামনে এসে তথ্যানুসন্ধানের দল এস ডি  পি ও র সাথে কথা বলে ।  দোকান খুলতে বাধা দেওয়ার ঘটনার কথা জানানো হলে তিনি বলেন নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন । APDR এর পক্ষে এই তথ্য এবং সামগ্রিক তথ্যানুসন্ধানের রিপোর্ট লিখিত আকারে তাড়াতাড়ি প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয় ।

 তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া বিবরণ

এরপর তথ্যানুসন্ধানের  দ্বিতীয় দলটি বাগবাজার কালীতলায় এক মুসলিম যুবকের সাথে কথা বলে  প্রথম দলের সঙ্গে যোগ দেয় । বাজার চৌমাথায়    “ মজলিস”  রেষ্টুরেণ্টের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে । দোকানের কর্মচারীরা সন্নিহিত উর্দিবাজার অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকদের নিয়মিত জুলুমের কথা বলে এবং  ১১ অক্টোবর রাতে ওই যুবকেরা দোকানে ভাঙ্গচুর করে । রেষ্টুরেণ্টের মধ্যে একটি কাচের প্যানেল ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় ।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া বিবরণ

“ মজলিস”  রেষ্টুরেণ্ট থেকে বেরিয়ে উত্তর পূর্ব দিকে আদি-মা সার্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজোর নাট মন্দিরের পাশে এলাকার এক যুবকের সাথে কথাবার্তা হয় । তিনি নিজেকে সি পি আই এম কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন । তাঁর বয়ান অনুযায়ী  :

  • গণ্ডগোলের সূত্রপাত মূলত ১১ অক্টোবর রাতে মহরমের মিছিলের পর এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকরাই তা ঘটায় ।
  • ১২ তারিখ সকাল থেকে ঘটমান প্রতিক্রিয়া মূলত বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের পরিকল্পিত ।আপাত স্ব্তষ্ফুর্ত হলেও এর পিছনে ক্রমশ বেড়ে ওঠা উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গুলির ভূমিকা স্পষ্ট । গত ২০১৩ সাল থেকে চন্দননগরে রামনবমীর মিছিলের চরিত্র এবং কর্তৃত্বে আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গুলি সরাসরি এই মিছিলকে হিন্দু জাগরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যা চন্দননগরে নতুন ।
  • ১১ অক্টোবর রাতে এবং পরদিন সকালে লালদিঘীরধার হরিজনপল্লীর দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে উর্দিবাজারের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সংঘাত লক্ষ্য করার বিষয় কারণ সংঘটিত হিন্দু প্রতিরোধ মূলত উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের উদ্যোগ ।
  • তাঁর মতে , সাম্প্রতিক গণ্ডগোল মোটামুটি সম্পত্তিহানি এবং ভাংচুর এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল । দুই সম্প্রদায় অস্ত্রহাতে মুখোমুখি দাড়িয়ে যায়নি ।
  • মহরমের কেন্দ্রীয় শোকযাত্রা বন্ধ রাখা না হলে সরাসরি সংঘাত , বৃহত্তর গণ্ডগোল এবং প্রাণহানির সম্ভাবনা ছিল বলে তার ধারনা –  কারণ দু পক্ষই সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল ।
  • তিনি জানান, ১২ অক্টোবর সর্বদলীয় বৈঠকে মূলত মহরমের শোভাযাত্রা নিয়ে আলোচনা হয় । এই বৈঠকে  মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা, যেসব নিরপরাধ মানুষ কে গ্রেফতার করা  হয়েছে তাদের মুক্তির দাবি জানান । এছাড়া তাঁরা শহরের ওই দিনের পরিস্থিতিতে – যেখানে মহরমের শোভাযাত্রা বানচাল করার জন্য নানা নাশকতার ঘটনা সারা দিন ধরে ঘটেছে –  শোভাযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের  কথা জানান । এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রশাসন এবং শাসক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয় । মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখলে , প্রশাসনের তরফ থেকে “তাঁদের সিদ্ধান্ত একান্তভাবে তাঁদের নিজস্ব  এবং প্রশাসনের আশ্বাস সত্তেও তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন” – এই বয়ান লিখিত ভাবে দিতে বলেন ।মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এমন লিখিত বয়ান দিতে অস্বীকার করেন , বরং তাঁরা উল্টে প্রশাসনের কাছে দাবী করেন লিখিত বয়ান দিতে যে “সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের  আপত্তি সত্ত্বেও , প্রশাসনের এবং শাসক রাজনৈতিক দলের নির্দেশেই তাঁরা শোভাযাত্রা বের করেছেন ।“ এই দাবি এবং পাল্টা দাবিতেই মৌখিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শোভাযাত্রা বন্ধ রাখা হয় ।
  • উর্দিবাজারের মধ্যে হিন্দুদের দোকানপাত লুঠের যে খবর ছড়িয়েছে তা কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে তিনি জানান ।

এই  যুবকের সাথে সাথে কথা চলাকালীন স্থানীয আর কিছু মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানান । দৃশ্যতই তাদের উপলব্ধি এবং মেজাজ উগ্র হিন্দুত্ববাদী ধারণায প্রভাবিত । একই সঙ্গে তা আবার ইতিপূর্বেই উল্লেখিত স্থানীয় মুসলিম যুবকদের জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া বিবরণ

এর আগে তথ্যানুসন্ধানের দ্বিতীয় দলটি বাগবাজার কালীতলা মোড়ে উর্দিবাজার নিবাসী এক মুসলিম যুবকের সাথে কথা বলে । পেশায় রাজমিস্ত্রি, এই মুসলিম যুবককে কে কথা বলার জন্য সঙ্গত কারণেই তার পাড়া থেকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয় । এই যুবকের  বিবরণ :

  • ১১ অক্টোবর রাতে একটি মহরমের মিছিল চলাকালীন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু যুবক জি টি রোডে ওরিএন্টাল স্পোর্টিং ক্লাবের বিপরীতে হিন্দু সম্রপ্রদায়ের কিছু মানুষের দোকানপাট ভাঙচুর করে , লুঠপাটের কোনও খবর তিনি জানেন না  । মিছিলে এই যুবক ছিলেন ; তিনি এবং অন্যান্য অনেকেই এই কাজে বাধা দেন । উত্তেজনা প্রশমিত করেন ।
  • তাঁর বয়ান অনুযায়ী , ওই রাতেই এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায বাজার অঞ্চলে কিছু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের দোকানপাট ভাঙ্গা হয় । পরদিন অর্থাত্‍ ১২ অক্টোবর সকালে ঘুম ভেঙ্গে তারা দেখেন লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার এবং উর্দিবাজারের সংযোগ স্থলে দুই সম্প্রদায়ের মানুষেরা সংঘর্ষে মুখোমুখি । হিন্দুদের তরফ থেকে কাচের বোতল, ইট ইত্যাদি ছোড়া হতে থাকে । যার উত্তরে মুসলমান সম্প্রদায়ের  পক্ষ থেকেও ইট বৃষ্টি হয় । উল্লেখযোগ্য যে সরাসরি সংঘাতের এই খবর কিন্তু জামাল ছাড়া আর কারো বয়ানে পাওয়া যায় নি ।
  • এরপর উর্দিবাজারে হিন্দু ব্যবসায়ীদের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যেমন প্যাটেল স-মিলে ব্যাপক ভাংচুর চালানোর চেষ্টা হয় ।মুসলিম সম্প্রদায়ের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কিছু মানুষের সার্বিক প্রচেষ্টায় তা আটকানো যায় ।
  • ১২ অক্টোবর সর্বদলীয় বৈঠকের ঘটনাবলীর বিবরণ এই যুবকের ভাষ্য পূর্বল্লিখিত বয়ানের সাথে মিলে গেছে

 

তথ্যানুসন্ধানের প্রথম দলে ছিলেন অমিতদ্যুতি কুমার, গৌতম মুন্সি এবং শুভময় ঘোষাল আর দ্বিতীয় দলে অমিত ঘোষ এবং চুচুড়া শাখার অমল রায়

SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY