- 02 September, 2026
- 0 Comment(s)
- 8 view(s)
- APDR
প্রেস বিবৃতি : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে গেরুয়া গুন্ডামি
#ASSOCIATION FOR PROTECTION OF DEMOCRATIC RIGHTS(APDR)
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি
১৮ মদন বড়াল লেন,
কলকাতা:৭০০০১২
প্রেস বিবৃতি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে আজ ফের গেরুয়া গুন্ডামি হ'ল। কয়েকদিন আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি-আরএসএস এর গুন্ডা বাহিনীর হামলার ঘটনা নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা হেডিং করেছিল 'গেরুয়া গুন্ডামি'। এই হেডিংয়ের বিরুদ্ধে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সভা করে ভয়ংকর হুমকি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন গেরুয়ার অপমান করার জন্য আনন্দবাজারকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিতে হবে। এবং আনন্দবাজারের প্রথম পাতায় সেই বিবৃতি ছাপতে হবে। নাহলে হাজার হাজার সাধু প্রস্তুত আছে। আনন্দবাজার ক্ষমা চায়নি। সঠিকভাবেই হুমকিকে অগ্রাহ্য করেছিল। তারপর আজ গেরুয়া পোষাক/গেরুয়া পাগড়ি পরে বেশ কিছু মানুষ আনন্দবাজার অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। এবং অফিস বাড়ির সাদা রংয়ের উপর কিছু জায়গায় বিশ্রিভাবে গেরুয়া রং করে দেয়।
গেরুয়া বাহিনীর এই অসভ্যতা যখন হচ্ছিল তখন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল।মজা দেখছিল। তারা কোন বাধাই দেয়নি। গেরুয়া বাহিনী এই গুন্ডামি করে কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে হুমকি দিয়ে চলে যায়। গুন্ডা বাহিনী চলে যাওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ ফের রং মিস্ত্রী ডেকে গেরুয়া রংয়ের উপর সাদা রং করে দেয়।
আমরা, এপিডিআর, এই গেরুয়া গুন্ডামির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা এই ঘটনাকে মত প্রকাশের অধিকারের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অংশ বলেই মনে করি। আমরা মনে করি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত এই ঘটনার দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। রাজ্যবাসীর কাছে আমাদের আবেদন, মতপ্রকাশের অধিকারের উপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দায় সরব হোন।
প্রসঙ্গত, প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে সারা পৃথিবীতে ভারতের স্থান ১৮০ র মধ্যে ১৫৭। এই ধরনের ঘটনা এই অবস্থানকে আরও তলানিতে নিয়ে যাবে বলেই আমাদের আশঙ্কা।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর হুমকিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়ারও আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারকে অস্বীকার করে ক্ষমতার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের দেওয়াল লিখন মুছে দিতে বলার মধ্যে একটা ক্ষমতা মদমত্ততা আছে। ছাত্রছাত্রীদের আঁকা দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিতি মুছে দেওয়া ছাত্রছাত্রীদের মত প্রকাশের অধিকারে হস্তক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে শত চিন্তার দ্বন্ধ হবে, আলাপ আলোচনা বিতর্ক হবে - এটাই তো স্বাভাবিক। এটাই তো ছাত্রছাত্রীদের বিকাশের পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনন্দিন প্রশাসনের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ বা হুমকি মোটেই কাম্য নয়। আমরা দাবী করছি, মুখ্যমন্ত্রী বা শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা ভবিষ্যতে এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে তার স্বাভাবিক ছন্দে চলতে দিন। কোন ধরনের গেরুয়া গুন্ডামি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে আর না হয় প্রশাসনের প্রধান হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীকেই তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজ্যবাসীকেও এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আমরা আবেদন জানাচ্ছি।
আলতাফ আমেদ,
সাধারণ সম্পাদক,
এপিডিআর।
০১/০৯/২০২৬