- 11 July, 2026
- 0 Comment(s)
- 14 view(s)
- APDR
প্রেস বিবৃতি: ১০ জুলাই ২০২৬ ॥ নারী সুরক্ষা নিশ্চিত কর ; এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ কর।
প্রেস বিবৃতি: নারী সুরক্ষা নিশ্চিত কর ; এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ কর।
৪ জুলাই ২০২৬ দক্ষিণ ২৪-পরগণার বারুইপুরে এক কিশোরীর ধর্ষণ এবং খুনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে চলমান ঘটনাপ্রবাহ - যার অন্যতম পরিণতি ৮ জুলাই ২০২৬ ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে পুলিশে হেফাজতে এনকাউন্টার করে হত্যা - সারা রাজ্যকে আলোড়িত করেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ অনুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৯ টি ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে এবং তা বেড়েই চলছে । নারী সুরক্ষা এ রাজ্যে আজ বড় প্রশ্নের মুখে।
বারুইপুরের ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় মানুষের জনরোষে এক সন্দেহজনক ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিন্দাযোগ্য এবং উদ্বেগজনক এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনোত্তর সামাজিক পরিস্থিতির অবনয়নের আর এক ছবি, যদিও পুলিশ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ আমরা স্বতঃস্ফূর্ত বলেই মনে করি। যথারীতি এই গণপিটুনির ঘটনাকে রাজ্য সরকার সম্প্রদায়িক এবং পরিকল্পিত বলে ষড়যন্ত্রের তকমা লাগিয়ে দিতে চাইছে। আমরা এই রাজনৈতিক অভিসন্ধির নিন্দা করছি।
এই ধর্ষণ এবং খুন এবং পরবর্তী ঘটনাবলী সরকারের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে প্রকট করছে। নতুন সরকারের নানা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর এবং অ-সাংবিধানিক বার্তা রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করার পরিবর্তে নৈরাজ্যবাদী করে তুলছে। ন্যায় বিচারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার পরিবর্তে, গণবিচার, সামাজিক শাস্তি এবং হেনস্তার নানা ঘটনা সর্বত্র এক অসাংবিধানিক এবং বর্বর অভ্যাসকে উৎসাহিত করছে।
এনকাউন্টার পরবর্তীতে বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যম নিহত ব্যক্তির পরিবারের যে বয়ান প্রচার করছে তাতে এই এনকাউন্টারের প্রতি পরিবারের এক ধরনের সম্মতি প্রকাশিত হচ্ছে। এই বয়ান অভিযুক্তের পরিবারের সাময়িক হতাশা বা পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক ধিক্কারের কারণে হতে পারে, কিন্তু তা কতটা রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত বা প্রভাবিত সে নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
১৯৯৭ সাল WP (Cri) No. 612 অনুসারে People’s Union for Civil Liberties vs. Union of India মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে যে, পুলিশি হেফাজতে এনকাউন্টারে হত্যা করা ব্যক্তির পরিবারের অবস্থান যাই হোক, রাষ্ট্রকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে এই এনকাউন্টারের তদন্ত এবং বিচার করতে হবে। আমরা সেই পরিপ্রেক্ষিত থেকে এই এনকাউন্টারের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইছি।
এই পরিস্থিতে আমাদের দাবি:
1. বারুইপুরের নাবালিকার ধর্ষণ ও খুন এবং এনকাউন্টারে হত্যার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
2. সম্ভাব্য কর্তব্যে অবহেলা ও অপরাধীদের অন্যায্য সুবিধা প্রদানের ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
3. নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের সাথে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে উপযুক্ত বিচার এবং শাস্তি দিতে হবে।
4. এনকাউন্টারের সাথে যুক্ত সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
5. সমস্ত রাজনৈতিক কর্মী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার এবং গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সুরক্ষা করতে হবে।
6. ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে
সঞ্জীব আচার্য
সভাপতি
আলতাফ আহমেদ
সম্পাদক
এ পি ডি আর
১০।৭।২০২৬